শরবত নিয়ে যাওয়া সেই মিজানুরের বাসায় ওয়াসার হুমকি!

ওয়াসার পানি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমডিকে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর উদ্যোগ নেয়া সেই মিজানুর রহমানকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া পাওয়া গেছে।

বুধবার বিকালে জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর মোবাইল ফোনে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, দুপুর দুইটার দিকে ৫/৬ জন আমার স্ত্রীর বাসায় (শ্বশুড়বাড়ি) গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছে। তারা অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেছেন। তখন আমি বাসায় ছিলাম না, ফোনে খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় যাই। ফোনে কথা বলার সময়ই তারা আমার উপর চড়াও হয়েছিল। বাসায় যাওয়ার পর তারা আমাকে মামলা-হামলার হুমকি দিয়েছে। বলেছে আমি যা করছি ভাল করছি না, আমাকে দেখে নেবে।

কারা হুমকি দিয়েছে জানতে চাইলে মিজানুর বলেন, আমি তাদের সবাইকে চিনি, আগেও দেখেছি। তারা সবাই ওয়াসার লোক। আমি ওয়াসার একজন গ্রাহক, বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু আমার সঙ্গে তারা খুব বাজে আচরণ করেছে। পারলে আমাকে মারে!

ব্যতিক্রমধর্মী এই প্রতিবাদের উদ্যোগ কেন নিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুরাইন, মুরাদপুরসহ আশপাশের এলাকার ওয়াসার পানির অবস্থা ভালো না। এখানকার মানুষের প্রতি আমার একটা কর্তব্য রয়েছে। সেই কর্তব্যবোধ থেকেই আমি ওয়াসার এমডিকে ওই পানি দিয়ে শরবত খাওয়াতে গিয়েছিলাম। কারণ তিনি বলেছিলেন ওয়াসার পানি নাকি শতভাগ শুদ্ধ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাজধানীর জুরাইন এলাকার মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমডিকে খাওয়াতে এসেছিলেন। কিন্তু পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাধার মুখে শরবত নিয়ে তারা ওয়াসা ভবনে ঢুকতে পারেননি।

পুলিশ তাদের জানান, এমডি সাহেব অফিসে নেই। এ সময় মিজানসহ উপস্থিতরা ওয়াসা ভবনের সিঁড়িতে বসে পড়েন।

মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে জুরাইন এলাকার কয়েকজনের ওয়াসা ভবনে আসার কথা আগের দিনই সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়। এরপর ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ওয়াসায় নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আনসারের পাশাপাশি পুলিশ মোতায়েন করে।

হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ নাওয়াজ আলী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, উনাকে হুমকি দেইনি। উনি আমাদের গ্রাহক, খারাপ ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না।

তিনি বলেন, উনি যেহেতু পানির মান খারাপ বলে অভিযোগ করেছে। তাই উনার বাসায় ল্যাবরেটরি কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন পানির স্যাম্পল সংগ্রহ করার জন্য যান। কিন্তু উনি পানি দেননি বরং আমাদের সাথে অসহযোগিতামূলক আচারণ করেছেন।

মিজানুরের শ্বশুর বাড়ি ১৯১৮ হাজী খুরশিদ সরদার রোডে পূর্ব জুরাইন এলাকায়।

তার বাসায় ওয়াসার উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ নাওয়াজ আলীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যায় বলে জানা যায়।

share this news:
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com