বেসরকারি হেলিকপ্টারে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পরিবহন!

ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পাচারের নিরাপদ পরিবহন বেসরকারি হেলিকপ্টার। বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর যাত্রী এবং ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অবৈধ পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, কক্সবাজার থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদক চোরাচালানের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে। যেহেতু হেলিকপ্টারের যাত্রীদের তেমন কোনো নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে যেতে হয় না এবং পণ্য পরিবহনের সময় স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা নেই, তাই এত দিন ব্যাপারটি কারও নজরে আসেনি।

গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এ তথ্যটি জানার পর গত ৩রা এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পাচার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। ওই সভায় বেসরকারি আটটি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারের মালিক ও তাদের প্রতিনিধি, বিমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাদক পরিবহন প্রতিরোধে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সভায় বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধে সুপারিশমালা তৈরি করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মাদক পরিবহন হচ্ছে। স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এ সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্য হেলিকপ্টার মালিকদের ডেকেছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকেও মাদক পরিবহন প্রতিরোধে হেলিকপ্টার ব্যবহারে সতর্কতা জারি করতে বলা হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য প্রতিরোধে সুপারিশ দিতে উচ্চ পর্যায়ের উপকমিটির বৈঠক গত ১৭ ই এপ্রিল ও ৯ ই মে অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে র‌্যাবের প্রতিনিধি জানান, বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর গন্তব্য, যাত্রী হিসেবে কারা যাতায়াত করছে এবং কি ধরনের পণ্য পরিবহন করছে এসব তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোন ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি হেলিকপ্টারগুলো হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে যাওয়ার আগে পথে কোথাও অবতরণ করছে কিনা বা গন্তব্য স্থান থেকে পুনরায় ঢাকায় আগমনের সময় অন্য কোথাও অবতরণ করছে কিনা এ তথ্যও পর্যালোচনার ব্যবস্থা নেই।

share this news:
WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com