প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রবিবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন কুমার দাস।

সিএমএম কোর্টের জিআরও এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতাক নিশ্চিত করে বলেন, “ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ জনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।”

“অভিযুক্তদের মধ্যে গত দেড় বছরে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে”, যোগ করেন তিনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ৪৭ জনের মধ্যে ১৮ জন ঢাবি শিক্ষার্থী রয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর।

বিভিন্ন গোয়েন্দা এবং গণমাধ্যম সূত্রে খবর পেয়ে একই রাতে ঢাবির দুইটি হলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মামুন এবং রানা নামের দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও রাফি নামক এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় এই মামলাটি দায়ের হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আরো জানান, সাভারের প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুরো ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য নাটোরের রাকিবুল হাসান, সংবাদকর্মী খান বাহাদুর, তার আত্মীয় সাইফুল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী- বনি এবং মারুফকে গ্রেপ্তার করে।

সিআইডি আরো জানায়, এই চক্রের মূল হোতা বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস। তাকে সাহাযু করতেন ইব্রাহীম, মুস্তাফা কামাল, হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং তাইজুল নামের এক ব্যক্তি। গত বছরের বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতরা জামিনের রয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃতদের নামে ২০ কোটি টাকা রয়েছে বলেও সিআইডি জানিয়েছে।

share this news:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *