দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সব রেলসেতু সংস্কারের নির্দেশ

দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সব রেলসেতু সংস্কারের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্ষার আগেই সেতুগুলো দ্রুত সংস্কার করতে বলেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় খেলোয়াড়দের অবসরের পর জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করতে বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেন তিনি। শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, রবিবার দিবাগত রাতে ঢাকা-সিলেট রুটে রেলের বগি পড়ে হতাহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব রেলসেতু জরিপ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। জরিপের মাধ্যমে যেসব সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উঠে আসবে, সেগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিতে বলেছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সোমবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জয়লাভ করায় ক্যাপ্টেন মাশরাফি ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানসহ দলের সব খেলোয়াড়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খেলোয়াড়রা তরুণ বয়সে ভালো অবস্থায় থাকলেও বয়স হয়ে গেলে তাদের অর্থকষ্টে পড়তে হয়। এমন খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। সব ধরনের পেশাদার খেলোয়াড় যেন সারাবছর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, সেজন্যও তহবিল গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, খেলা বলতে শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবল, হকি, ভলিবল, বাস্কেট বল, সব ধরনের খেলাকেই সহযোগিতা করতে হবে। শুটিং ও আর্চারিতেও আমাদের সম্ভাবনা আছে। সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার একনেক সভায় মোট ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৯৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৬ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ২৪১ কোটি ৫২ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা আকারে ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

সভায় ৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনের প্রধান সংযোগ রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিন বছরমেয়াদি প্রকল্পটিতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল হতে ৩৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ও সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) হতে ৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ব্যয় করা হবে।

সভায় জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার রাস্তা উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ এবং ফুটপাত নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন হবে। এর মাধ্যমে যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের মাধ্যমে নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৪৩.২৫ কিলোমিটার বিটুমিনাস কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ, ৪০.৫৫ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, ৮৯.৭০ কিলোমিটার ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

share this news:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *