ভারতের খেলা দেখতে ১৪ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিল এই পরিবার!

প্রিয় দলের খেলা দেখতে সমর্থকেরা কত কিছুই না করেন! ভারতের ক্রিকেটপাগল মাথুর পরিবার যেমন সিঙ্গাপুর থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে চেপে পাড়ি জমিয়েছেন লন্ডনে। ১৭টি দেশ এবং দুটি মহাদেশ পাড়ি দেওয়া পরিবারটি একটি আশা নিয়েই এসেছে। ১৪ জুলাই লর্ডসে ট্রফিটি যেন কোহলিদের হাতেই দেখতে পায়

মাঠে বসে দেশের খেলা দেখতে ভক্তরা কিনা করেন! এই তো আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার খেলা দেখতে প্রায় ১০ হাজার ২২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন এক ভক্ত। তা–ও নিজের কোনো গাড়ি ছাড়া, অন্যের দয়ার ওপর ভর করে মিসরে গেছেন এই ফুটবলভক্ত।

বোথা এমসিলা নামের এই ‘সুপার ফ্যান’ অসম্ভব মিশনকে বাস্তবে রূপ দেন। ফুটবলভক্তদের এমন পাগলামির তুলনায় ক্রিকেটপ্রেমীরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। সুদূর ইংরেজ মুলুকে বিশ্বকাপ দেখতে ভারতীয় ক্রিকেটের পাঁড় সমর্থক পরিবার গাড়িতে চড়ে ১৪ হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছে। ১৭টি দেশ এবং দুটি মহাদেশ পাড়ি দিয়ে গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে পৌঁছানোর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৮ দিনের ভ্রমণের ইতি টেনেছে মাথুর পরিবার।

গত ২০ মে সিঙ্গাপুর থেকে নিজেদের সাত সিটের টয়োটা ভেলফায়ার গাড়িতে করে যাত্রা শুরু করা মাথুর পরিবার দীর্ঘ ৪৮ দিন পর ৪ জুলাই লন্ডনে এসে পৌঁছেছে। এরপর লিডসে গিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি মাঠে বসে উপভোগ করেছে তারা।

যেখানে সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি ফ্লাইটে মাত্র সাড়ে ১৩ ঘণ্টায় আয়েশ করে লন্ডনে যাওয়া যায়, সেখানে দীর্ঘ ৪৮ দিন ধরে গাড়িতে করে তুষারঝড়, শিলাবৃষ্টির মতো নানাবিধ দুর্যোগ মাথায় নিয়ে কেন লন্ডনযাত্রা? প্রশ্নের উত্তরটা দিলেন রোড ট্রিপ যার মস্তিষ্কপ্রসূত, সেই অনুপম মাথুর, ‘বিশ্বকাপে ভারতকে মাঠে বসে সমর্থন দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। তাই আমরা গত মার্চেই এই পরিকল্পনা করি। বিমানে করে গেলে হয়তো খুব সহজেই যেতে পারতাম। কিন্তু দেশের জন্য বিশেষ কিছু করার ইচ্ছে ছিল।’

অনুপম তাঁর বাবা অখিলেশ, মা অঞ্জনা, স্ত্রী অদিতি, তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলশিশু আভিভ এবং শিশুকন্যা আভ্যাকে নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে যাত্রা শুরু করেন। সেখান থেকে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, চীন, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ফ্রান্স পার হয়ে তবেই ইংল্যান্ডে পৌঁছায় মাথুর পরিবার।

শৈশব থেকেই বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছে ছিল অনুপম মাথুরের, ‘ছোটবেলা থেকেই গাড়ি চালিয়ে বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছে আমার। আমার কাছে পৃথিবীর একটা নীলরঙা মানচিত্র আছে, যেটায় কোনো দেশের সীমানা অঙ্কন করা নেই। আমি যেই জায়গাগুলোতে ভ্রমণ করেছি, সেই স্থানগুলো আমি লাল রং করে দিই। এভাবে আমি পুরো মানচিত্রটিকে একদিন লাল রঙে রাঙাতে চাই।’

share this news:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *