পাকিস্তানে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১০

পাকিস্তানে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৫ জন। পাঞ্জাবের সাদিকাবাদের ওয়ালহার রেলওয়ে স্টেশনে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

খবরে বলা হয়, সিগন্যাল পরিবর্তনের সময় ভুল করে যাত্রীবাহী ট্রেন আকবর এক্সপ্রেস অন্য লাইনে ঢুকে পড়ে। এ সময় স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে এটির সংঘর্ষ হয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রহিম ইয়ার খান জেলার ডেপুটি কমিশনার জামিল আহমেদ জামিল জানান, কোয়েটাগামী ওই ট্রেনের সকল যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। রেল লাইন ঠিক করার কাজ চলছে। উদ্ধার করা যাত্রীদের খাবার ও পানীয় সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনীও যোগ দিয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য একটি তথ্য সেল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রেলওয়ে মন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ প্রত্যেক নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য ১৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পাঁচ লাখ রুপি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এক টুইটে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের আরোগ্য কামনা করেন। তিনি লিখেছেন, ‘রেলওয়ের অবকাঠামোতে কয়েক দশকের অবহেলার জবাবে জরুরি পদক্ষেপ নিতে রেলওয়ে মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি।’

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারপারসন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি টুইটার বার্তায় দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ে মন্ত্রীকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনা যেন প্রতিদিনের রুটিন হতে শুরু করেছে। কিন্তু রেলমন্ত্রী কিছুই করতে পারছেন না।’

রশিদ আহমেদ মন্ত্রী হওয়ার পর রেল লাইন মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়নি- এমন তথ্য তার কাছে আছে বলেও জানান বিলাওয়াল।

গত মাসে হায়দরাবাদের কাছে জিন্না এক্সপ্রেসের সঙ্গেও একটি মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। তখন তাতে তিনজন নিহত হয়েছিল। সেই ঘটনার দায় নিজের ওপর নিয়ে রেলমন্ত্রী রশিদ জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

share this news:
WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com