নামাজী ব্যক্তি আর আমি!

এইচ এম ফারুক আহমেদের ট্রাইমলাইন থেকে

আমি একটু ঠান্ডা প্রকৃতির মানুষ। তাই নিশ্চুপ থাকতে পছন্দ করি। এক কথায় একা থাকতে পছন্দ করি। গোলমাল পছন্দ করি না। কম মানুষের মধ্যেই নিজেকে নিজে খোঁজার চেষ্টা করি। অন্য সবগুলো দিনের মতো ৪ অক্টোবর শুক্রবার ও ৫ অক্টোবর শনিবার ছিল আমার ছুটির দিন। সাধারণত আমি ছুটির দিনগুলো বাসায় ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেই। কিন্তু এই শুক্রবারটা আমি একটু অন্যভাবে কাটাতে ইচ্ছে হলো। তাই বৃহস্পতিবার রাতেই ছুটে গেলাম এক সাংবাদিক দাদার বাসায়। তিনি হিন্দু মানুষ তাই একটু ধ্যান-গ্যান-তপস্যা পছন্দ করেন। আমিও একটু একটু। তবে আগেই বলে রাখি আমি কিন্তু মুসলমান পরিবারের জন্ম তাই আমিও মুসলমান কিন্তু মুসলমানদের যে রীতি হয়তো ঠিক ভাবে পালন করি না, নামাজ পড়ি না, খুব একটা ধর্মের প্রতি আগ্রহও নেই। তবুও নামে মুসলমান। কিন্তু কারো ক্ষতিও করি না, কাউকে গালিও দেই না, না পারলে মিথ্যাও বলি না। হয়তো আল্লাহ মুসলমান হিসেবে গ্রহণ করবেন না কিংবা করতেও পারেন। কিন্তু আমি নামে মুসলিম। দাদা যে বাসায় বাড়া থাকেন সেই বাসার আবার মালিকের দুই ছেলে রয়েছে তারা আবার একটু অ গোছালো, একটু নেশা-পানি পছন্দ করে, তাস খেলতে পছন্দ করে।

৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত পেরিয়ে সকাল হলো, রাতে ভালোই মজা করলাম। সকাল হতেই দাদা তার প্রতিদিনের রুলস মেনে গোসল করে রেডি হয়ে চলে গেলেন প্রেসক্লাবে। আমি ঘুমিয়ে রইলাম আর ঘুমিয়ে রইলাম। ঘুমাতে ঘুমাতে দুপুর ১টা, ২টা, ৩টা, ৪টা, ৫টা, ৬টা পেরিয়ে সাড়ে ৬টায় ঘুম থেকে উঠলাম। উঠতেই দাদাও তার দিনের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরলেন আর বললেন তুমি কি এখন ঘুম থেকে উঠেছে? আমি হ্যাঁ বলে মাথা ঝাঁকি দিলাম। তারপর তিনি বললেন যাও হাত মুখ ধুয়ে নাও সারাদিন কিছুই খাওনি! যাও তাড়াতাড়ি করো আমি খাবার নিয়ে আসছি। তারপর যথারীতি ঘুম থেকে উঠে তাদের রুমের সাথেই ওয়াশরুম। বলে রাখা ভালো ওয়াশ রুমে কোনো লাইট নেই, আমিও আগেও অনেকবার এখানে এসেছি তাই জানি সব কিছু। তারপর ওয়াশরুমে ঢুকেই অন্ধকার দেখে দরজা আর লাগালাম না বসে গেলাম ১ নম্বর (প্রশ্রাব) করতে। এমন সময় হঠাৎ একটা সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পড়া লোক পেছন থেকে এসে দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করে দিলেন ওয়াশরুমের মুখে আমি কালো একটি টিশার্ট পড়া অবস্থায় থাকায় সে হয়তো আমি খেয়াল করেনি। তারপর আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম সেও ভয় পেল আর বলল ভাই ভাই সরি সরি, আমি দেখি নাই, নামাজ পড়ে আসলাম! মসজিদই খুব চাপ দিছিলো অনেক কস্টে এখানে এসে ছেড়ে দিলাম! আমি বললাম তাই বলে দাঁড়িয়ে? আপনি না নামাজ পড়েন? তিনি বললেন আরে ব্যাপার না। আসলেই ইনি বাড়িওয়ালার ছোট ছেলে (মিন্টন ভাই)। তারপর উনি চলে গেলেন। আমিও হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে রুমে ঢুকতেই দেখি দাদা খাবার নিয়ে এসেছেন হোটেল থেকে। কারণ তিনি ব্যাচেলর। তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে যথারীতি আমরা আমাদেরটা (নাম বলবো না) খাচ্ছি! এমন সময় তার আগমন, ওই যে নামাজ পড়েন বাড়িওয়ালার ছোট ছেলে মিন্টন ভাই।

তিনি আসলেন সাথে আরো একজন নিয়েও আসলেন, বললেন একটু মজা করি কিছু মনে কইরো না। বলেই সাথে থাকা লোকটির কাছ থেকে বের করলেন তাদের সেবনের নেশা, তারপর ঘন্টা খানেক নেশা করলেন আর কত যে জ্ঞানের কথা বললেন, নামাজ ছাড়া যাবে না, আল্লাহ পাঠিয়েছেন তার কাজ করতে, সেটাই করতে হবে। আরো কতো কতো জ্ঞানের কথা! তারপর হঠাৎ করে বলে উঠলেন এই কয়টা বাজে? আমি বললাম ভাইয়া ৮টা বেজে ১০ মিনিট। তিনি বললেন সাড়ে আটায় জামাত, মানে এশারের জামাত, সো তোমরা আমাকে একটু মনে করিয়ে দিয়ো। ওকে ভাইয়া। এবার বললেন দুইটা মসজিদে দুই সময় জামায়াত একটায় ৮.২৫ অন্যটিতে সাড়ে আটটা। সো একটা মিস হলে আরেকটাই পাবোই। আমি বললাম হ্যাঁ তাইতো একটাই মিস হলে আরেকটাই পাবেন। ওনার এসব কান্ড দেখে অনেক প্রশ্ন এলো মনে, কিন্ত কিছুই জিজ্ঞেস করতে পারলাম না, এক কথায় সাহস হলো না। তারপর ৮.২৫ মিনিটে তিনি চলে গেলেন এই মাতাল অবস্থায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায়! বললেন নামাজ পড়তে যাচ্ছি। তারপর আবার হঠাৎ ৯টার দিকে তিনি ফিরে এলেন আর বললেন আরো একটু দুষ্টামি করবো, কিছু মনে কইরো না। এবার সাথে নিয়ে এলেন আরেকজনকে তিনি নাকি ওনার বন্ধু। ব্যাগ থেকে তাস বের করলেন এরপর একটানা ৩ ঘণ্টা তাস খেললেন বাজিতে। সাথে বসে বসে আমাদেরকে অনেক জ্ঞান দিলেন আমরাও শুনলাম। এর পর চলে গেলেন। আমিও পরদিন সকালে চলে এলাম। সমাপ্তি

এই গল্পের আরো মনে হয় বকেয়া রয়ে গেল, আরো জানতে হলে আমাকে আরো কয়েকবার যেতে হবে সেখানে আপনাদেরও চোখ রাখতে হবে আমার ট্রাইমলাইনে!

লেখক: এইচ এম ফারুক আহমেদ
সহ-সম্পাদক, রূপ বাংলা নিউজ

share this news:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *