একটা প্রেম, বন্ধুত্ব আর এগিয়ে চলা (পর্ব-১)

এইচ এম ফারুক আহমেদ

ওর সাথে আমার প্রথম দেখাটা কাকতালীয়! জুন মাসের ১২ তারিখ আইইউবিতে এক বড় ভাইয়ের ফটো এক্সিবিশন আছে। প্রোগ্রামে যাবো এই জন্য সকালে অফিসে গিয়েই ডিপার্টমেন্টের বসকে বলে রাখলাম ভাইয়া আমার প্রোগ্রাম আছে ২টার দিকে একটু বের হবো। বলল ঠিক আছে। এর আগেও ভাইয়ার অনেক প্রোগ্রামে গিয়েছি। বলে রাখা ভালো আমি ভাইয়ার প্রোগ্রামে যাই মূলত প্রোগ্রামের প্রেস রিলিজ (পিআর) করার জন্য। প্রোগ্রাম শুরু ২টায়। আমাকে আগেই বের হতে হবে। তাই চেষ্টা করেও অফিসে কাজের কারণে পারলাম না বের হতে। আড়াইটার দিকে বের হলাম। বের হয়েতো অবাক! প্রচুর রোদ, রাস্তা যানজট, গরমে হাসফাস চলে আসছে। তারপরও যেতে হবে। ভাইয়া ফোন দিচ্ছে একের পর এক। তাই রওয়ানা দিলাম।

গুলশান থেকে যানজট গরম ঠেলে অবশেষে সাড়ে ৩টায় আইইউবিতে গেলাম। তার মধ্যে যে হলে প্রোগ্রাম হচ্ছে সেটি খুঁজতে আমার আরো ১৫-২০ মিনিট লেগে গেলো। পৌঁনে ৫টায় আইইউবির হলে গিয়ে ভাইয়ার সাথে দেখা, ততক্ষণে প্রোগ্রাম শেষ। অতিথিরা ফটো এক্সিভিশন ঘুরে ঘুরে দেখছেন। এর মধ্যে চোখে পড়ল আজকে ভাইয়ার সাথে ওনার ভাই, বোনসহ ফ্যামিলির গুটিকয়েকট সদস্য আসবে এটা আগে থেকেই জানি, তাই হলো তারা এলো। তাদের সাথে ৪-৫টি মেয়ে চোখে পড়লো! দেখলাম সবগুলোই খুব চঞ্চল! কিন্তু একজন খুব নরম মনে হচ্ছে! কোনো কথা নেই! মনে হয় কেউ মারা গেছে তাই তার মন খারাপ! যাই হোক দেখলাম কিন্তু কোনো কথা হয়নি সে আমাকে দেখেছে কি না তাও জানি না। প্রোগ্রাম শেষে যে যে যার যার মতো চলে যাচ্ছে ভাইয়াও তার ফ্যামিলিকে সাথে আরেকজন সাংবাদিকসহ বললেন বাসায় চলে যেতে। সেই সাংবাদিকও আমার খুব পরিচিত, সে হিন্দু তাকে আমরা দাদা বলে ডাকি প্রফেশনের কারণে।

তারপর সেখানে রাত ৭-৮টা পর্যন্ত পিআর রেডি করে বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠিয়ে ভাইয়াসহ আমার বাসায় এলাম, আমার বাসায় উত্তর বাড্ডায়। যথারীতি আরো কিছু কাজ ছিল শেষ করে ভাইয়ার সাথে কিছুক্ষণ খোশ গল্পে মেতে উঠলাম। ওই যে মন খারাপ মেয়েটা আর ওদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলাম ভাইয়াও আমাকে আদর করে তাই অকপটে বলে দিলেন ওদের মধ্যে দুইটা আমার ভাইয়ের মেয়ে আর ৩টা ওই সাংবাদিক হিন্তু দাদার ভাইয়ের মেয়ে। এর কিছু মনে করতে পারনে এই ভেবে আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করার সাহস হয়নি যে মন খারাপ সেই মেয়েটি কে?

বাট এতটুকু জানলাম এখানে সেই হিন্দু দাদার ভাইয়ের ৩ মেয়ে আছে। ধারণা করলাম ও (মন খারাপ মেয়েটি) সেই হিন্দু দাদার ভাইয়ের মেয়েই হবে। কারণ ৩টা মেয়ের চেহারা কাছাকাছি, ওদের মধ্যে ও (মন খারাপ মেয়েটি) একজন। এর পর অনেকটা হতাশ হয়েই বাদ দিলাম! এর পর মাঝে কিছু দিন পার হলো। কিন্তু ওকে নিয়ে কখনও ভাবা হয়নি, ওর নামও জানা হয়নি। সব মনে হয় বিধাতা ঘুছিয়েই রেখে ছিলেন। এরপর প্রপোজ, রিজেক্ট, ভালো বন্ধুত্ব, ওর বয়ফ্রেন্ড আছে জেনেও এক সাথে কাটানো সময়, এখনও বন্ধুত্বের মাঝেও মনে মনে ভালোবাসার একটা ছোট্ট আশা, আশাইতো বাসা বাঁধে, ওর সাথে বন্ধুত্বও টিকিয়ে রাখার প্রবল ইচ্ছে, সব কিছুই থাকবে ধারাবাহিক, যতদিন বেঁচে থাকবো হয়তো এই গল্পের শেষ আমি করতে পারবো না! কারণ এর শেষ পরিণতি আমার অজানা!

২য় পর্ব আগামী ১৩ অক্টোবর।

share this news:

4 thoughts on “একটা প্রেম, বন্ধুত্ব আর এগিয়ে চলা (পর্ব-১)

  1. প্রিয় ভাই অসাধারণ হয়েছে এগিয়ে যান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *