একটা প্রেম, বন্ধুত্ব আর এগিয়ে চলা (পর্ব-২)

এইচ এম ফারুক আহমেদ

মাঝের কয়েকটা দিন এভাবেই কাটলো! এর মধ্যে সেই সাংবাদিক বড় ভাই দেশের বাইরে গেলেন তার ফটো এক্সিভিশন করতে ফলে দেশে আমার কাজ একটু বেড়ে গেল। এখান থেকে প্রোগ্রামের সব প্ল্যান করতে হয়, ডিজাইন, লেখালেখি, প্রচার-প্রচারণাসহ অনেক কাজ। কাজের সুবাধে এর আগেও ভাইয়ার বাসায় গিয়েছে কয়েকবার। সাংবাদিক বড় ভাই আর ওইযে হিন্দু দাদা তারা একসাথেই থাকতেন। মানিকনগরে ব্যাচেলর বাসায়। ওনাদের ফ্যামিলি থাকেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ চনাপাড়ায়। আর ভাইয়ের বোন একজন থাকেন ওনাদের পাশেই আরেকটি বাসায়। সেই আপুও সাংবাদিক। তাকেও আমি চিনি। তো কাজের জন্য যাওয়া হয় সেই বাসায় (মানিকনগর)। যেতেই দাদা খুব যত্নসহকারে আমন্ত্রণ জানালেন, কারণ কানাডা থেকে সেই বড় ভাই ফোন করে আমার আশার কথা আগেই বলেছেন। তারপর ফ্রেশ হলাম। কাজ করলাম অনেকসময়। রাত গভীর হলো দাদার সাথে গল্প করছি আর কাজ করছি।

গল্পের ফাকে ওদের সম্পর্কে জানতে চাইলাম। দাদাও গড়গড় করে বলে দিলেন ওদের মধ্যে এই ৩জন আমার ভাইয়ের মেয়ে ও (মন খারাপ মেয়েটা) আমার ভাইয়ের বড় মেয়ে নাম (রূপন্তি জান্নাত), ঢাক নাম রূপা। ফেসবুক আইডি আছে (রূপন্তি জান্নাত) নামে। আর সবচেয়ে বড় কথা ওরা মুসলমান। ওর বাবা ছোট বেলায় একটা মুসলমান মেয়েকে (আম্মুকে) বিয়ে করে মুসলমান হয়ে গেছে।

এই প্রথম ওর নাম জানলাম। তাও এতো দিন পর। মনে মনে ভাবলাম আর কিছু লাগবে না। ওকে আমি ঠিক খুজে বের করবো। আরো খুশি হলাম যখন জানলাম ওরা মুসলিম হয়ে গেছে। যদিও ভালোাসা ধর্ম-বর্ণ কিছুই মানে না। ও হিন্দু হলেও ওকে ভালোবাসতাম।

ওই রাতে কাজ শেষ করে সকালে অফিসে গেলাম কিন্তু ওর কথায় শুধু মনে আসতে ছিল। দুপুরের দিকে ওকে ফেসবুকে রিকুয়েস্ট দিলাম কয়েকটি মেসেজও দিলাম। বাট ও সাড়া দিল না। ভাবলাম মনে হয় মেয়েটা একটু সহজ সরল। ওর প্রোফাইলও আবার লক করা। ফেসবুকে আবার একটা সিস্টেম আছে এটা আমরা সবাই জানি ফ্রেন্ড না হয়ে মেসেজ দিলে সেটা রিকুয়েস্টে গিয়ে জমা হয়ে থাকে। স্পেসেফিক ভাবে মেসেঞ্জারের মেসেজ রিকুয়েস্ট না দেখলে বোঝা যায় না কেউ মেসেজ পাঠিয়েছে। তাই হয়েছে ও মনে হয় দেখেনি। তারপর সারাদিন একটু টেনশনে রইলাম কি করা যায়। আমার অফিসে ফেসবুক লগইন বন্ধ থাকায় মোবাইল থেকে সব কাজ করা যায় না। আমি একটু আকটু আইটির কাজ জানায় সন্ধ্যা নামতেই বাসায় এসেই আগে ওর প্রোফাইল লক সিস্টেম খুললাম। ওর আইডি থেকে কিছু ডিটেলস নিলাম। কোথায় পড়ে। কোথায় থাকে। এতোদিন কিছুই জানতাম না। তারপর সেই রাতেই আবার দাদার বাসায় গেলাম। মাথায় আইডিয়া এলো দাদাতো একটু বোকা-সোকা টাইপের ওনার আইডিটার কন্ট্রোলটা নিতে পারলে একটু হেল্প হবে। তাই করলাম একটা উপায়ে দাদার আইডির কন্ট্রোল নিজের কাছে নিলাম। তারপর ওকে মেসেজ দিলাম। দাদার আইডি থেকে আমার সম্পর্কে বললাম, রিকুয়েস্ট অ্যাক্সেপ্ট করতে বললাম। ও দেখলাম সবই স্বাভাবিক ভাবে নিল। ২-৩ মিনিট পর আমার ফোনে নোটিফিকেশন এলো ও আমার রিকুয়েস্ট অ্যাক্সেপট করলো। শুধুই অ্যাক্সেপ্টই করলো না আমাকে মেসেজও দিল। লিখলো আপনি কে? আমার বিষয়ে কাকার কাছে কেনো জানতে চেয়েছেন? আমিতো সাথে সাথেই রিপ্লাই। বললাম আমার দেওয়ার মতো কোনো পরিচয় নেই। বাট তুমি অনেক সুন্দর। ও বলল আমার কাছে কি চান? বললাম তোমার সাথে প্রেম করতে চাই। সরাসরি প্রপোজ! ওতো অবাক! বললো ব্লক দিমু কিন্তু, আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। রিজেক্ট করে দিল।কিন্তু অবাক করার বিষয় ও যে আমাকে রিজেক্ট করলো এটা আমার কাছে মনেই হলো না! আমার আবার এই ধরণের পরিস্থিতি সামলানোর গুণ রয়েছে। মাঝে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি দাদার কাছ থেকে শুনেছি ওর আবার সাংবাদিক হওয়ার একটা ইচ্ছে আছে। চিন্তা করলাম আমিও সাংবাদিকতা করি বাহ মিলে যাবে।

সাথেই সাথেই দৃশ্যপাট পাল্টে ওকে ছোট্ট বেলার বন্ধুর মতো বলে দিলাম প্রেম না করস বন্ধুত্বতো করাই যাই নাকি? ও কোনো রিপ্লাই দিল না! ১-২ দিন পার হলো অনেক মেসেজ দিলাম ও দেখেছে ঠিকই কিন্তু রিপ্লাই দেয়নি। এমন কিছু মেসেজ ওকে পাঠিয়েছে যেমনটা আমরা ছোট্ট বেলার বন্ধুদের পাঠাই। সব তুই তুই করে, মনে হয় ও আর আমি শৈশব থেকে এক সাথে ছিলাম। ২দিন পর ও মেসেজ দিলো, কিছুটা ইমপ্রেস! বললো ঠিক আছে ফ্রেন্ডশীপ করবো আর কিছু না। আমিও রাজি। আমার মাথায় একটাই জিনিষ ঘুরপাক খাচ্ছে এই যুগের মেয়ে কলেজে পড়ে দুই একটা বয়ফ্রেন্ড থাকবে এটাই স্বাভাবিক! চিন্তা করলাম ভালো বন্ধুইতো জীবন সঙ্গী হতে পারে! ওর সাথে সখ্যতা বেড়ে গেলো ও আমার প্রতি বিশ্বাসও পেলো শুধু বন্ধু হিসেবে। অনেক ব্যক্তিগত-পারিবারিক বিষয় শেয়ার করতে লাগলো মাত্র ৩ দিনের মাথায়। আমিতো আরো একটু আশা পেলাম। গবেষণায় দেখেছি মেয়েরা যাদের বিশ্বাস করে বা ভালোবাসে শুধু তাদের সাথেই এই ধরণের কথা শেয়ার করে। এই ভাবেই কয়েক দিন বন্ধুত্ব চলতে থাকলো। কিন্তু তখন একটাই চিন্তা মাথায় আসতো ওকে কোনো না কোনো ভাবেই ভালোবাসার ফাঁদে ফেলবোই! অনেক মজার মজার মেসেজ পাঠাতাম কথা বলতাম। প্রতিদিনের বিষয়াদি নিয়েও ওর সাথে আলোচনা করতাম, ও কলেজ ফ্যামিলি মোটামুটি সব কিছু নিয়েই আমার সাথে কথা বলতো। এমনকি বয়ফ্রেন্ডকে নিয়েও! এর মধ্যে দূর্গা পূজা চলে এসেছে আমার ছুটি হবে কয়েকদিনের এই ভেবে চিন্তা করলাম বরিশাল যাবো ঘুরে বেড়াতে। ঠিক দিনটির তারিখ মনে নেই। রূপা (মন খারাপ মেয়েটি/রূপন্তি জান্না) আমাকে মেসেজ দিল ও মানিকনগর আসবে ছুটিতে। কলজে বন্ধ দিয়েছে তাই সেই সাংবাদিক ভাইয়ার বোন সাংবাদিক আপুর বাসায় আসবে। সেই সাথে স্বত্বও দিয়ে দিল ওকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম এই ছুটি ঢাকাতেই কাটাবো। কিন্তু ওকে মেসেজে বুঝতে দিলাম না। ভাব ধরে বললাম আমি বরিশাল যাবো এই সেই। ও একটু মন খারাপ করলো আমি বুঝতে পারলাম। এও অনুভব করলাম আমার প্রতি বন্ধুত্ব হোক বা অন্য কিছু একটা বিশ্বাস বা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে ওর। সুযোগটা কাছে লাগাতে হবে। কিন্তু ও যেদিন মানিকনগর আসলো সেদিন কাজের কারণে ওর সাথে দেখা কিভাবে করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমি ফুলটাইম-পাট টাইম মিলিয়ে ২টা জব, সাথে একটু আকটু ইউটিউবিং, লেখালেখির কারণে একটু ব্যস্তই থাকতে হয়। সন্ধ্যায় অফিস থেকে বের হয়ে….

এক সাথে কাটানো সময়, প্রপোজ রিজেক্টের পরও এখনও বন্ধুত্বের মাঝেও মনে মনে ভালোবাসার একটা ছোট্ট আশা, আশাইতো বাসা বাঁধে, ওর সাথে বন্ধুত্বও টিকিয়ে রাখার প্রবল ইচ্ছে, গল্পের প্রথম অংশ পড়ে ওর যে প্রতিক্রিয়া, সব কিছুই থাকবে ধারাবাহিক, যতদিন বেঁচে থাকবো হয়তো এই গল্পের শেষ আমি করতে পারবো না! কারণ এর শেষ পরিণতি আমার অজানা!

৩য় পর্ব ১৮ অক্টোবর।

প্রথম পর্ব পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

একটা প্রেম, বন্ধুত্ব আর এগিয়ে চলা (পর্ব-১)

share this news:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *