চৌদ্দগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারে ছিল না ঈদের আনন্দ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারে ছিল না ঈদের আমেজ। নিহতের পরিবারে বইছে শোকের মাতম। আহতদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবারের লোকজন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের বসকরা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে আবু বকরের সাথে একই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে এয়াকুবের ফুটবল খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এনিয়ে সম্প্রতি আবুল কালাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মজুমদারকে দায়িত্ব দেয়। সোহেল মেম্বার বিষয়টি মিমাংসা করতে কালক্ষেপন করে। এরই মধ্যে দু‘পক্ষের মধ্যে রাগ-ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে গত ১০ মে আমির হোসেন তার বাড়ির সামনে ধান ঝরাচ্ছিলেন। এসময় আবুল কালাম ও তার ছেলে এয়াকুব, ভাতিজা দিদার, শাহআলম, সাইফুল, রিয়াদ ও সাকিলের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমির হোসেনের উপর আক্রমন করে। তার আত্মচিৎকারে ছেলে শিপনসহ অন্যান্যরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে অন্তত ১০জনকে আহত করে। এসময় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে আমির হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন শিপন (৩৪) মারা যায়। সন্ত্রাসী হামলায় শিশু, নারীসহ আরো ৯জন আহত হয়। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্নস্থানে ভর্তি করা হয়। নিহত শিপনের মা বাদি হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১৪১১৫, তারিখ-১১/০৫/২০২০ ইং। পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্রসহ ৮জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের হাতে ধৃত আসামী দিদারুল আলম ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিহত শিপনের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, গত বছরের ঈদে আমার ছেলে এবং বউ-নাতি নিয়ে কতো আনন্দ করেছি। এবার ঈদে আমার ছেলে হারানোর বেদনায় আমি কাতর হয়ে গেছি। তিনি তার ছেলে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। শিপনের পিতা আহত আমির হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার ছেলের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন তারা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। সন্ত্রাসী হামলায় আহত মোমেনা বেগমের নাতি হৃদয় বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার ষাটোর্ধ্ব দাদী এবং আমার পিতাকে গুরুতর আহত করেছে। তাদের চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছি। ঈদের আনন্দ কাটানোর সুযোগ হয়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আবুল কালাম হুন্ডি ব্যবসার আড়ালে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। তাদের অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে শিপনকে হত্যা ও অন্যদের আহত করার প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে এলাকায় পোস্টার, লিফলেট বিতরণসহ সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আরিফুর রহমান বলেন, মামলার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে ৮জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, মামলার বাদি এ বিষয়ে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

share this news:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *