করোনার পর শুরু হয়ে গেল ব্যাট-বলের লড়াই

প্রকৃতির হেঁয়ালি বোঝার সাধ্য কার? এমনিতে করোনাভাইরাসের কারণে ১১৬ দিন ক্রিকেট নাই মাঠে। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে যেই না মাঠে গড়াবে ক্রিকেটের বল, অমনি বেরসিক বৃষ্টি এসে দিলো বাগড়া। অবশেষে প্রায় তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে শুরু হলো ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ব্যাট-বলের লড়াই, তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট।

ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের সঙ্গে টস করতে নামেন ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস। কয়েন নিক্ষেপে জিতলেন তিনি এবং জিতেই নিলেন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত।

করোনাভাইরাস সব পরিস্থিতি যে পরিবর্তন করে দিয়েছে, তা এই মুহূর্তেই বোঝা গেলো। কারণ, টস করার পর আগের রীতি অনুযায়ী দুই অধিনায়কের করমর্দন হলো না। একে অপরের কাঁধে হাত রেখে ছবিও তোলা হলো না। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই সব আয়োজন সম্পন্ন করা হলো।

শুধু টস করাই নয়, ১১৬ দিন পর অবশেষে কাংখিত সেই ক্রিকেটও শুরু হয়ে গেলো। সাদা পোশাকে, রঙিন বলে ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী সংস্করণ, টেস্ট শুরু হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ৪.১ ওভারের খেলাও হয়ে গেছে। ইংল্যান্ড রান করেছে ৩টি। উইকেট হারিয়েছে ১টি। ইংলিশ ওপেনার ডোম সিবলি বোল্ড হয়ে যান শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে, কোনো রান না করেই। ২ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ররি বার্নস এবং ১ রান নিয়ে জো ড্যানলি।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সারা বিশ্বেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ক্রিকেট। শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলার চেষ্টা করেও পুরো সিরিজ শেষ করতে পারেনি। এরপর টানা ১১৬ দিন ক্রিকেটের বল গড়ায়নি মাঠে।

এরই মধ্যে ইউরোপে শুরু হয়ে যায় ফুটবল লিগগুলো। জার্মান বুন্দেশলিগার পর স্প্যানিশ লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এবং ইতালিয়ান সিরি-আ। এরপরই শুরু হয় ক্রিকেটকে মাঠে ফেরানোর তোড়জোড়। ইংল্যান্ডই এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তারা আয়োজন করলো তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

এই সিরিজ খেলার জন্য ৫ সপ্তাহ আগেই ইংল্যান্ড পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ড এসে তারা পালন করে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন। এরপর তিন সপ্তাহ সময় পায় প্রস্তুতির। অবশেষে সব বাধা, সব আলোচনা-সমালোচনা পেছনে ঠেলে অবশেষে মাঠে গড়ালো ক্রিকেট। দর্শকহীন গ্যালারি, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে, বায়ো-সিকিউর পরিবেশে আয়োজন করা হলো এই সিরিজ।

এই সিরিজের মধ্য দিয়েই করোনা পরবর্তী সময়ে নতুন বেশ কিছু নিয়মও চালু হলো। সবচেয়ে আলোচিত নিয়ম হচ্ছে, পেসাররা বলে থুতু ব্যবহার করতে পারবে না। করোনা বদলি’র নিয়মও ব্যবহার করা যাবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, উদযাপনে নতুনত্ব- সবই দেখা যাবে এই সিরিজ থেকে।

করোনার পর সবার প্রথম বল করার জন্য ছুটে আসেন ক্যরিবীয় পেসার কেমার রোচ। তাকে মোকাবেলা করেন ররি বার্নস। অন্য প্রান্তে ছিলেন ডোম সিবলি। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অন্য প্রান্তে বোলিং করেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। তিনিই আবার প্রথম উইকেট নেয়ার অধিকারী হলেন। ডোম সিবলিকে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান।

দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হওয়ার কারণে করোনার পরবর্তী ক্রিকেট ফেরার প্রথম ম্যাচটি খেলতে পারছেন না ইংল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক জো রুট। তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেন স্টোকস।

share this news:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *